সাগরবাণীবাজেট প্রত্যাখ্যান করে কপি ছিঁড়ে ফেললেন বিএনপির এমপিরা   - সাগরবাণী বাজেট প্রত্যাখ্যান করে কপি ছিঁড়ে ফেললেন বিএনপির এমপিরা   - সাগরবাণী

বাজেট প্রত্যাখ্যান করে কপি ছিঁড়ে ফেললেন বিএনপির এমপিরা  

প্রকাশ: ২০২০-০৭-০১ ১২:৩০:২৪ || আপডেট: ২০২০-০৭-০১ ১২:৩০:২৪

সাগরবাণী ডেস্ক▪ 

 

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রত্যাখ্যান করে তার কপি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। নতুন অর্থবছরের শুরুর দিন বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১২টায় সংসদ ভবনের বাইরে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে দাঁড়িয়ে বাজেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান বিএনপির সংসদ সদস্যরা। এসময় দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য একসঙ্গে বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলেন। করোনা মোকাবিলায় সরকারকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং রোডম্যাপ তৈরি করে জাতির উদ্দেশে প্রকাশ করার দাবি জানান তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হাসেন, বগুড়া-৬ আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম এবং সংরিক্ষত আসনের রুমিন ফারহানা ‘বাজেট প্রত্যাখান’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। দলটির বাকি দুই সংসদ সদস্য অসুস্থ থাকায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে পারেননি বলেও জানানো হয়।

সংসদ সদস্য ভবনের (ন্যাম ফ্ল্যাট) উল্টোপাশে সংসদের ফটকের বাইরে প্ল্যকার্ড নিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় সংসদ সদস্য এবং খবর সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানতে দেখা যায়নি।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের বাজেট কোথাও পাস হয়নি। মঙ্গলবার যে বাজেট পাশ হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত, অকল্পনীয়। গত বাজেটের চেয়ে এই বাজেটে প্রায় ২৪ শতাংশ অধিক বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এটি অবাস্তব। এটা বাস্তবায়ন কোনোদিনই সম্ভব নয়। এটি আমরা প্রত্যাখান করছি।

তিনি বলেন, আজকে গোটা জাতি একটি সংকটের মধ্যে কিন্তু আমি যেটা উপলব্ধি করলাম সরকার এ সংকটের মধ্যে যারা সংকট নিরসনে কাজ করতে চায়, জাতিকে পরামর্শ দিতে চায়, তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে। আজকে স্বাস্থ্যখাতের যে বেহাল দশা তার বিরুদ্ধে আমি কথা বলেছি। সংসদে দাঁড়িয়ে আমি প্রথম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছি এবং গোটা স্বাস্থ্য বিভাগকে সংস্কারের কথা বলেছি। আজকে তথাকথিত বিরোধী দলও দাবি জানিয়েছে।

হারুন অর রশীদ বলেন, শ ম রেজাউল করিম পূর্তমন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন যে কারণে পূর্তমন্ত্রণালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সরকার দুর্নীতির কাছে আত্মসমর্পন করে তাকে সেখান থেকে সরিয়েছে। আজকে বলা হচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কিন্তু বাস্তবে কি তা সত্য? আজকে এই সংসদের মধ্যেই চিহ্নিত সরকারি সম্পদ লুটপাটকারী, চিহ্নিত মানবপাচারকারীরা রয়েছে, চিহ্নিত ব্যাংকলুটকারীরা রয়েছে। তারাই এখন ক্ষমতাধর, তারাই রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, আমরা আবারও দাবি জানাচ্ছি, করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য রোডম্যাপ দিতে হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণ, করোনায় যাতে মানুষ মারা না যায় তার জন্য সরকারকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে। অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করে যোগ্য ব্যক্তিদের এই দুঃসময়ে দায়িত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে গোটা স্বাস্থ্য বিভাগকে সংস্কার করতে হবে।

এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমীন ফারহানা।

করোনা মোকাবিলায় বিএনপির দেওয়া ৮৭ হাজার কোটি আর্থিক সহায়তা প্যকেজের কথা উল্লেখ করে রুমীন ফারহানা বলেন, ‘আমরা তিন বছর মেয়াদী বাজেট ভাবনা দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বরাবরের মতো তার চরম কর্তৃত্ববাদী চরিত্র বজায় রেখে বিএনপি’র পরামর্শগুলো আমলে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সরকার যে বাজেট প্রস্তাবনা সামনে এনেছে, সেটা একমাত্র ক্ষমতাসীন দল ছাড়া কেউ কোনোভাবেই একটা সংকটকালীন বাজেট হয়েছে বলে রায় দেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটি ক্ষেত্র থেকে বলা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট করোনায় সৃষ্ট জীবন এবং জীবিকার সংকটট মোকাবিলায় সক্ষম নয়। ফলে আগামী দিনগুলোতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। পুরো বাজেটটি নানা রকম স্ববিরোধীতা, অসামঞ্জস্যতায় পরিপূর্ণ।’

লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহারা বলেন, ‘সরকারের আর সব বাজেটের মতো এই বাজেটে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ যে রকম ঢালাওভাবে করা হয়েছে সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে আর কখনও হয়নি। এবার মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে।’

বাজেটে বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনও কর্মসূচি নেই বলে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘করোনা সংকটের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের একটা পর্যটন খাত নিয়ে দেওয়া হয়নি একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও। এই দেশে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও যে মোবাইল ফোনে কথা বলে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেটা ব্যবহারের খরচ বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু শুল্ক কমানো হয়েছে ধনীদের ব্যবহার্য সোনার

Visits: 13

ট্যাগ :

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০২
  • ১১:৫৯
  • ১৬:৩১
  • ১৮:৩৩
  • ১৯:৫৩
  • ৫:২১