সাগরবাণীকালের কণ্ঠ সম্পাদক বিরুদ্ধে তারেক রহমানের আইনি নোটিশ - সাগরবাণী কালের কণ্ঠ সম্পাদক বিরুদ্ধে তারেক রহমানের আইনি নোটিশ - সাগরবাণী

কালের কণ্ঠ সম্পাদক বিরুদ্ধে তারেক রহমানের আইনি নোটিশ

প্রকাশ: ২০২০-০৭-০১ ০৮:০০:০৬ || আপডেট: ২০২০-০৭-০১ ০৮:০০:০৬

 

ডেস্কঃ

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি নিয়ে হাওয়া ভবন ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় মানহানির অভিযোগে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) তারেক রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ আইনি নোটিশ পাঠাছন। রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রিপোর্টটিতে তারেক রহমান ও হাওয়া ভবন নিয়ে দেওয়া তথ্য অসত্য দাবি করে নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্টের সত্যতার প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। প্রমাণে ব্যর্থ হলে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পত্রিকায় আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, গত ২৩ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠের অনলাইন ভার্সনে জনৈক ব্যক্তির রেফারেন্সে তারেক রহমান ও হাওয়া ভবনকে জড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানহানি হয়েছে এবং তার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন ‘মন্ত্রীদের ছেলেরাই গডফাদার মিঠুর ভরসা, তাই তিনি ছেলে ধরা’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্বাস্থ্য খাতে যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার নিয়ন্ত্রণ যে ব্যক্তিটি নিজের হাতে বছরের পর বছর ধরে রেখেছেন তিনি ঠিকাদারি সাম্রাজ্যের গডফাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। গা বাঁচাতে সাত বছর ধরে কিছুটা পর্দার আড়ালেই আছেন তিনি। কিন্তু প্রতাপ ধরে রেখেছেন ঠিকই। কেনাকাটার বাইরে স্বাস্থ্য খাতের সরকারি পর্যায়ে বদলি-নিয়োগেও রয়েছে তাঁর সমান নিয়ন্ত্রণ। পেছনের কারণ হলো- হাওয়া ভবন থেকে মিন্টো রোড, মহাখালী থেকে সচিবালয়, মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বাসায় অগাধ যাতায়াত তার। যুগের কিংবা সরকারের বদল হলেও তাঁর কোনো অসুবিধাই হয় না। নিজের সিন্ডিকেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে বসানো এবং অপছন্দের লোকদের অন্যত্র বদলি করানোর কাজও নিয়মিত করে ফেলছেন নানা প্রভাব খাটিয়ে। পালিয়ে থেকে দিব্যি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন।

গত ৩০ মে জনপ্রশাসনসচিবের কাছে লেখা এক চিঠিতে এই মিঠুসহ আরো বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদউল্লাহ। মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর একসময়ের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিঠুর এত প্রভাবের খুঁটির জোর কোথায়? সে কেন সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। এর জবাব মন্ত্রীদের ছেলেরাই মিঠুর ভরসা। তাই আমরা তাকে সব সময় ‘ছেলেধরা মিঠু’ বলেই ডাকতাম। কেবল স্বাস্থ্যমন্ত্রীই নন, আরো কয়েকজন মন্ত্রীর ছেলেদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে বাণিজ্যিক কারণেই।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৌশলে একজন মন্ত্রীর ছেলের বন্ধু হয়ে মিঠু ঢুকে পড়েন মিন্টো রোডের বাসভবন থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর একান্ত কামরায়। বলা হয়ে থাকে, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটার সব কিছুই ছিল এই মিঠুর নিয়ন্ত্রণে। তৎকালীন ওই মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে মিলে প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক, কোথায় কোন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে না হবে, প্রাক্কলন তৈরি থেকে শুরু করে বিল তৈরি পর্যন্ত সব কিছুই বেশির ভাগ সময় মন্ত্রীর মিন্টো রোডের বাসায় অথবা মিঠুর অফিসে ঠিকঠাক হতো। মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তাঁর সুবিধাভোগী কর্মচারীরা ফাইল নিয়ে ছোটাছুটি করতেন ওই দুই জায়গায়। যাঁরা তাঁকে সহায়তা করতে বিলম্ব করতেন কিংবা অপারগতা দেখাতেন তাঁদেরই পড়তে হতো বদলি বা বিভিন্ন ধরনের বিভাগীয় শাস্তির কবলে। এসব প্রক্রিয়ায় দরপত্র তৈরি ও বিল প্রস্তুতের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দর দেখিয়ে চলত কেনাকাটা। নিজের ১৫-১৬টি প্রতিষ্ঠানসহ সহযোগীদের নামে থাকা ঠিকাদারি লাইসেন্স দিয়ে চলত এসব দুর্নীতির উৎসব।

 

Visits: 10

ট্যাগ :

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০২
  • ১১:৫৯
  • ১৬:৩১
  • ১৮:৩৩
  • ১৯:৫৩
  • ৫:২১