সাগরবাণীদুর্দিনের কর্মীরা অবমূল্যায়িত, সুবিধাভোগীদের দুর্নীতিতে আওয়ামী লীগের অর্জিত সুনাম হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ - সাগরবাণী দুর্দিনের কর্মীরা অবমূল্যায়িত, সুবিধাভোগীদের দুর্নীতিতে আওয়ামী লীগের অর্জিত সুনাম হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ - সাগরবাণী

দুর্দিনের কর্মীরা অবমূল্যায়িত, সুবিধাভোগীদের দুর্নীতিতে আওয়ামী লীগের অর্জিত সুনাম হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশ: ২০২০-০৭-১২ ১৩:৪২:৪০ || আপডেট: ২০২০-০৭-১২ ১৩:৪২:৪০

সাগরবাণী ডেস্ক▪ যুদ্ধবিধ্বস্তের ভঙ্গুর আর্থ সামাজিক অবস্থা থেকে বাংলাদেশ আজকের এই উত্তরণের সাফল্য গাথার প্রতি বাকেঁ বাকেঁ জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে যাচ্ছেন, বঙ্গবন্ধু তনয়া আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাহসী নেতৃত্বের জন্যই করোনাকালে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮.২ ধরে সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়েছে,

যেখানে স্বাধীনতার প্রাক্কালে জনসংখ্যার পাচঁ ভাগের চার ভাগই দারিদ্রসীমার মধ্যে বসবাস করত।

কিন্তু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে কিছু সুবিধাভোগী, আদর্শহীন ও অর্থলোভী অরাজনৈতিক ব্যক্তি যারা নিজেদের দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য ব্যবহার করছে আওয়ামীলীগের কষ্টার্জিত সুনামকে, রাজনৈতিক আশ্রয়ের ঢাল হিসেবে। স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতিতে সাধারণত পরগাছা বণিক সম্প্রদায় এবং কালো টাকার বিত্তশালীদের অংশগ্রহণ তেমন  ছিল না। সংসদ সদস্যদের মধ্যে যাদের মূল পেশা ব্যবসা তাদের অনুপাত স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের ১৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দশম সংসদে ৫৮ শতাংশে উদ্বেগজনকভাবে উন্নীত হয়েছে। সাথে সাথে একশ্রেণীর সুবিধাভোগী চক্রও তৈরী হয়েছে যারা দেশে সরকার পরিবর্তনের সাথে নিজেদেরও পরিবর্তন ঘটায়, সাপের মত খোলস বদলায়। রাজনীতিতে দিনে দিনে যতই অরাজনৈতিক সুবিধাবাদী, অসাধু শিল্পপতি ব্যবসায়ী এবং পেশিশক্তির অনুপ্রবেশ ঘটছে, বিভিন্ন দলে নেতৃত্ব সংকটও ততই বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। প্রভাবশালী বড় দল সরকারি হোক আর বিরোধী হোক- কালো টাকা সামাল দেওয়া, চাপ প্রয়োগ বা ক্ষমতা ব্যবহার করে বিত্ত-বৈভব বানিয়ে নেওয়া, চাঁদাবাজি করা, অসৎ কাজে প্রভাব বলয় সৃষ্টি করা এসব দলে বেড়েই চলছে। নব্য আওয়ামী লীগ ও সুবিধাভোগীদের কাছে মাঠের নেতা-কর্মীরা আজ অসহায় হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি ভোরের কাগজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ২০০৩ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে সোনাগাজী উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন নুর ইসলাম খোকন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় এক যুগ ধরে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আর রাস্তায় নামতে পারেননি। খোকনের বাবা আবুল কালাম ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং আমৃত্যু আওয়ামী লীগের কর্মী ও সেবক। তার পাঁচভাই সবাই আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। কিন্তু বর্তমানে রিকশাভ্যান নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পেপার ও ভাঙারি মালামাল সংগ্রহ করে কোন রকম স্ত্রী পুত্রদের নিয়ে দিনযাপন করছেন। নুর ইসলাম খোকন অসহায়ভাবে বলেন, “আমার সাংগঠনিক পদটি কবে শূন্য হয়েছে, কেন সাবেক হলাম কিছুই জানি না। সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারি না। জরাজীর্ণ ঘরে পরিবার নিয়ে কোনোরকমে জীবন চালাচ্ছি। সরকার আমাদের উপজেলায় ২৮০টি ঘর দিয়েছে। সেখান থেকে একটিও আমার ভাগ্যে জোটেনি। দলের দায়ীত্বশীল ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ঘর পাইনি। শুনেছি টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যান এসব ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন।”
এই রকম অগণিত খোকন, হাইব্রিড আর অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে কয়জনেরই বা আমরা খবর পাচ্ছি।

পক্ষান্তরে, বিএনপি আমলে গণপূর্ত বিভাগের নিয়মিত ঠিকাদার পরবর্তীতে অনুপ্রবেশকারী’ যুবলীগের নেতা জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান ১৬টি সরকারি প্রকল্পে আড়াই হাজার কোটি টাকার কাজ পায়, কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া সত্যিকার অর্থে দুঃখজনক। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানিয়েছিলেন , কাজ পেতে তাঁকে কোটি কোটি টাকা কমিশন গুনতে হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন।

সম্প্রতিকালের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কান্ড, জাল সার্টিফিকেট প্রদানকারী, লাইসেন্স নবায়ন বিহীন প্রতিষ্ঠান, রিজেন্ট
হাসপাতালের সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এই ব্যয় বহন করবে। কিন্তু তারা রোগীপ্রতি লক্ষাধিক টাকা বিল আদায় করেছে ও পাশাপাশি রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে—এই মর্মে সরকারের কাছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি বিল জমা দেয়। গত ৯ বছরেই রাজধানীর বিভিন্ন থানায় প্রতারণার অন্তত ৩২টি মামলা হয় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের বিরুদ্ধে কিন্তু এমন অভিযোগের পরও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো বাছবিচার ছাড়াই কীভাবে তাকে আওয়ামীলীগের উচ্চ পদ দেয় এবং ঘনিষ্ঠতা লাভ করে তা নিয়েই জনমনে নানা প্রশ্ন। এই রকম আরো কত শামীম, পাপিয়া, সাহেদরা ঘাপটি মেরে ধূয়াশায় লুকিয়ে আছে কে জানে।

ঠিক একইভাবে তৎকালীন দেশবিরোধী একটি চক্র বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলেন । দেশ বিরোধী চক্র, নব্য আওয়ামী লীগ কিছু নেতা-কর্মী, সুবিধা ভোগী আওয়ামী লীগ নেতারা মিলে অধিকাংশ সরকারী ত্রাণ লুট করত।
সর্বস্তরে দুর্নীতির এই লাগাম টেনে ধরতে ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমি বলবো বাংলার জনগণকে—এক নম্বর কাজ হবে দুর্নীতিবাজদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে। আমি আপনাদের সাহায্য চাই। কেমন করে করতে হবে? আইন চালাবো। ক্ষমা করবো না। যাকে পাবো ছাড়বো না।’ কিন্তু
তাঁর এই সৎ চিন্তাধারাকে বাস্তবে প্রতিফলন ঘটাতে দেয়নি আওয়ামীলীগের ভিতরেই চোরাবালির মত ত্যাগী সেজে বসে থাকা বিশ্বাসঘাতক ও এই সুবিধাভোগীরা।

উন্নয়নশীল স্তর থেকে উন্নত দেশের পদমর্যাদা পেতে হলে এখনো আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এই পথ অত্যন্ত দীর্ঘ এবং কণ্টকাকীর্ণ। এখন প্রয়োজন বিশ্বস্ত ও পরিক্ষিত কর্মী।
এই নব্য ও সুবিধাভোগী আওয়ামীলীগদের ঠেকাতে অতীতে যারা ছাত্রাবস্থায় থেকে সততা, নিষ্ঠা, জনসংযোগ, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব দানের বিচক্ষণতা দিয়েই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছিলেন, রাজনীতিতে কমিটেড এবং ডিভোটেড তাদের অবদান এবং প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে যোগ্যতাবলে তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে তুলে আনা সময়ের উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হবে। তাতে করে নব্য ও সুবিধাভোগীরা স্থান দখল করতে পারবে না। ছাত্রলীগ ছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনো নিরাপদ নয়। হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসারা দলের জন্য অশনিসংকেত। বর্তমানে প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা দলের ভিতর শুদ্ধিকরণ অভিযান চালাচ্ছেন যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই শুদ্ধি অভিযানে উচ্চ পর্যায়ের নেতাদেরও নিজেদের দায়িত্ববোধে কর্মী নির্বাচনে যতেষ্ট দক্ষাতার পরিচয় দিতে হবে। প্রিয় নেত্রীর একার পক্ষে হয়ত সব বিষয় চোখে নাও পড়তে পারে তাই নেত্রীর দেয়া দায়িত্ব যেন স্বচ্ছতার সাথে পালনে আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নেত্রীর এই জিরো টলারেন্স এবং কঠোর অবস্থানের কারণে একটি মহল চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। বহুবার তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বেঁচে গেছেন সবার ভালোবাসায়। আমরা চাই তিনি বেঁচে থাকুন। খন্দকার মোস্তাকদের মত বিশ্বাসঘাতক ও সুবিধাভোগীদের এখনই চিহ্নিত করে দেশের উন্নয়ন ও নেত্রীর সুরক্ষায় আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক আশ্রয় হতে বিতাড়িত করতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার বিষয়টি সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রিয় নেত্রীর স্বপ্নে বুক বেধে আছে আমাদের আগামীর উন্নত বাংলাদেশ।

লেখক : রিগ্যান কান্তি দাশ
আইনজীবী ও ছাত্রনেতা।

Visits: 35

ট্যাগ :

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৮
  • ১১:৫৮
  • ১৬:৩২
  • ১৮:৩৫
  • ১৯:৫৭
  • ৫:১৮