সাগরবাণীউই ক্যান প্লাটফর্মের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো তারুণ্যের চোখে সুন্দরবন বিষয়ক আলোচনা - সাগরবাণী উই ক্যান প্লাটফর্মের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো তারুণ্যের চোখে সুন্দরবন বিষয়ক আলোচনা - সাগরবাণী

উই ক্যান প্লাটফর্মের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো তারুণ্যের চোখে সুন্দরবন বিষয়ক আলোচনা

প্রকাশ: ২০২০-০৭-১৯ ১১:৪০:২৩ || আপডেট: ২০২০-০৭-১৯ ১১:৪০:২৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনার এই সময়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ এর এ্যাকটিভ সিটিজেন্স এর সদস্যরা নানামুখী কাজ করে যাচ্ছে।তেমনকি কক্সবাজারের একটি প্লাটফর্ম উই ক্যান। করোনা মহামারীতে নানাবিধ কার্যক্রমের মধ্যে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়ে দেশ-বিদেশের তরুণ ও অভিজ্ঞদের সংযুক্ত করে চালিয়ে যাচ্ছে নানান লাইভ অনুষ্ঠান। ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে  গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায়  উই ক্যান প্লাটফর্মের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো তারুণ্যের চোখে সুন্দরবন বিষয়ক ফেইসবুক লাইভ অনুষ্ঠান।

তরুণ সংগঠক ও উই ক্যান প্লাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা ওমর ফারুকের সঞ্চালনায়  উই ক্যান ফেইসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডঃ জয়ন্ত গৌড়। তিনি সুন্দরবন নিয়ে গবেষণা করে আসছেন দীর্ঘদিন। পাশাপাশি ব্যবহারিক পরিবেশবিদ্ হিসাবে কলকাতায় বেশ জনপ্রিয় ও পরিচিত।আরও উপস্থিত ছিলেন পূর্বাশা ইকো সোসাইটির প্রানকর্তা উমাশঙ্কর মন্ডল। সুন্দরবন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন তিনিও। পাশাপাশি লেখক হিসাবে বেশ পরিচিত এক ব্যাক্তিত্ব।সুন্দরবন নিয়ে প্রতি মুহুর্তে ডায়নামিক চিন্তাভাবনার এক শক্তি আমাদের কাছে। সাম্প্রতিক ম্যানগ্রোভ ম্যান হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন উমাশষ্কর।

আলোচনার উল্লেখযোগ্য পয়েন্টগুলো পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো- 

সুন্দরবনের জন্য চাই তরুণ প্রজন্ম ও সুস্হায়ী  উন্নয়ন-

সুস্হায়ী উন্নয়ন যদি মানবকেন্দ্রিক হতে হয়, তাহলে একজন মানুষকে বিবেচনা করতে হবে তার মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময় থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। এই উপমহাদেশে প্রাচীনকালেও জীবনকাল হিসাব করা হতো গর্ভকালীন সময়কে ধরে। সুস্থ, সবল জাতি গঠন করতে হলে কোনো মা যখন গর্ভধারণ করেন, তখনই বিবেচনা করতে হবে তিনি পরিমাণমতো ও পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন কি-না। তিনি ঠিকমতো স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পাচ্ছেন কি-না। গ্রামাঞ্চলে গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে এখনও অনেক কুসংস্কার রয়েছে। একটি টেকসই উন্নত জাতি গঠন করতে হলে এদিকে নজর দিতে হবে। দরিদ্র পরিবারে এমন অনেক মা আছেন যাদের ঠিকমতো খাবারই জোটে না। তাদের সন্তানও স্বভাবতই অপুষ্টি নিয়ে জন্মাবে, যা আরও দারিদ্র্যের জন্ম দেবে এবং দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রকে অব্যাহত রাখবে। অনেক সময় দেখা যায়, সচ্ছল পরিবারে খাবারের পর্যাপ্ততা থাকে বটে; কিন্তু কোন খাবার খেলে মা ভালো থাকবেন, সেটা জানা থাকে না বা সেদিকে নজর দেওয়া হয় না। আমি মনে করি, আমাদের এদিকে নজর দেওয়া উচিত। যারা খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সক্রিয়, তারাসহ সরকারকে এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

একটি শিশু জন্মানোর পরও মায়ের খাবার-দাবার ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে মনোযোগ রাখতে হবে যাতে করে তিনি সুস্থ, সবল ও নীরোগ থাকেন এবং শিশুকে মাতৃদুগ্ধের জোগান দিতে পারেন। একই সঙ্গে শিশুর খাবারের দিকেও মনোযোগ থাকা জরুরি। একটি শিশু যদি শৈশবে বিশেষ করে মায়ের দুধ ছাড়ার পর খাবার ও পুষ্টির পর্যাপ্ত জোগান না পায়, তাহলে সেও সুস্বাস্থ্য ও শক্তির অধিকারী হবে না। তার নিজের জীবনে তো বটেই পরবর্তী প্রজন্মেও পড়বে এর নেতিবাচক প্রভাব। অনেক সময় কম সামর্থ্যের মধ্যেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে পারে এমন খাদ্যদ্রব্যের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে কোন কোন খাদ্য প্রয়োজন মেটাতে পারে সে সম্বন্ধে জ্ঞান থাকা জরুরি।

একটি শিশু বেড়ে ওঠার পর তার শিক্ষা নিয়ে পরিবার, সরকার এবং সমাজকে অঙ্গীকারবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। সার্বজনীন মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার (অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত) ওপর বিশেষভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা দেশে এখনও সেভাবে ‘সার্বজনীন’ হয়ে ওঠেনি। অর্থাৎ বিনাখরচে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে দেশের এই পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর মাঝে বই বিতরণ সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় না বা তা শেষ করে না বা মানসম্মত শিক্ষা পায় না। দেখা যাচ্ছে, যেসব পরিবার আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকে তাদের সন্তানরাই বেশি ঝরে পড়ে। মূলত দারিদ্র্যের কারণে তারা বেশিদূর যেতে পারে না। শিক্ষার আগে তাদের খাওয়া-পরার চিন্তা করতে হয়। যারা টিকে থাকছে, প্রাথমিক পার হয়ে মাধ্যমিকে যাচ্ছে তারাও সাধারণত মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না। প্রাথমিক শেষ করা শিশুদের উল্লেখযোগ্য অংশ দেখা যায় লিখে মনের ভাব ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারে না। আর তারা যে শিক্ষা পেয়েছে তা কাজে লাগিয়ে জীবন গড়ার জন্য যে ‘ফাংশনাল এডুকেশন’ দরকার, সেখানে ঘাটতি আরও বেশি

সুন্দরবনের শিক্ষার মানের যে দৈন্য, তার অন্যতম প্রধান কারণ শিক্ষাদানে মান সংকট। অনেক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অপ্রতুল। অনেক শিক্ষকেরই উপযুক্ত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। দেখা যায়, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বা অঞ্চলে এই ঘাটতির চিত্র আরও প্রকট। জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে যে, পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়গুলোতে বেশি নজর দিয়ে ‘শিক্ষা সাম্য’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সেই নীতির সার্থক বাস্তবায়ন এখনও সম্ভব হয়নি।

চলতি বছর থেকে আমাদের অন্যান্য ক্ষেত্রের সঙ্গে শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

শিক্ষার ক্ষেত্রে নিছক পরীক্ষা পাসের দিকে মনোযোগ দিলে চলবে না। একজন শিক্ষার্থী কী পড়তে পারল, কী শিখতে পারল, সেগুলোর সঙ্গে তার কিছু গুণাগুণও অর্জিত হতে হবে। তাকে সামাজিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সহমর্মিতা, নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদি অনুশীলনে উদ্যোগী হতে হবে। শিক্ষা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে এসব গুণ অর্জিত না হলে একজন শিক্ষার্থী হয়ে উঠবে অনেকটা যান্ত্রিক, হয়ে উঠতে পারে আত্মকেন্দ্রিক।

একজন মানুষের শিক্ষিত হয়ে ওঠার পেছনে পরিবার ও রাষ্ট্র ছাড়াও সমাজের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান থাকে। উপযুক্ত মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে না পারলে পরবর্তী জীবনে অনেকেই এই সত্য ভুলে যায়। একই সঙ্গে আমাদের কারিগরি শিক্ষার হার আরও বাড়াতে হবে।

উচ্চশিক্ষার সনদপ্রাপ্ত অনেকেই কর্মসংস্থান সংকটে ভুগছে। যদি কারিগরি শিক্ষার প্রতি জোর দেওয়া হয়, তাহলে এই সংকট অনেক কমে যাবে বলে ধারণা করি।

উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ একটি গুরুতর সংকট। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের অনুপাতে ছেলেদের তুলনায় বেশি; তবে উচ্চশিক্ষায় তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়লেও এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশে রয়েছে। আবার দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার কম থাকে। মাধ্যমিকের পর, বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকের শেষদিকে বা তারপর অনেকের বিয়ে হয়ে যায়। এ জন্য এবং অন্যান্য কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত যত মেয়ে পড়াশোনা শেষ করে, তাদের বড় অংশ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণের হার ছেলেদের তুলনায় অনেক কম। আবার উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত তারা যে শিক্ষা গ্রহণ করে, তারপর সংসার জীবনে প্রবেশ করলে সেটার সদ্ব্যবহার হয় না বললেই চলে। মেয়েদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারের বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ রয়েছে, যেমন জয়িতা। কিন্তু সেটা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ ধরনের উদ্যোগ বাড়াতে হলে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

মূল কথা হচ্ছে, তরুণ প্রজন্মকে একটি উন্নত জাতি ও টেকসই উন্নয়নে যথাযথ অবদান রাখার জন্য দক্ষতা ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর কথা ভাবতে হবে। তার আগে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে তাদেরকে সুস্থ, সবল ও মানসিকভাবে ইতিবাচক চিন্তার অধিকারী করে গড়ে তোলা। তাদের দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তোলা। তরুণদের সবার সম্ভাবনা এক ক্ষেত্রে থাকবে না। যার যে বিষয়ে সম্ভাবনা রয়েছে, আগ্রহ রয়েছে, সে যেন সেই কাজ মুক্তভাবে করতে পারে তার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।

একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সম্পর্কে তরুণদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য থাকতে হবে, যাতে করে তারা অনায়াসে বুঝতে পারে কোন খাতে, কী কাজে, কী মাত্রার দক্ষতা প্রয়োজন; আগামীতে কোন খাতে কী ধরনের কর্মী প্রয়োজন হবে। তাহলে তাদের পক্ষে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সহজ হবে। সরকার ইতিমধ্যে যুব অধিকার আইন প্রণয়নে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তা যথাযথভাবে প্রণীত হলে এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে, তরুণ প্রজন্ম উলি্লখিতভাবে উদ্বোধনে অগ্রগতি হবে। দশ থেকে পঁচিশ বছর পর্যন্ত জনসংখ্যা দেশের এক-তৃতীয়াংশ আবার আঠারো থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সীদের সংখ্যাও দেশের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে জীবনচক্রভিত্তিক যে সুযোগ আমাদের রয়েছে তা অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।

তরুণ প্রজন্ম যেন শুধু অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বেড়ে না ওঠে, সেদিকে নীতিনির্ধারক ও বাস্তবায়কদের খেয়াল রাখতে হবে। তারা যেন সামাজিকভাবেও দায়িত্বশীল হয়। তাদের মধ্যে যেন জর্মভূমির প্রতি দেশপ্রেম থাকে। তরুণদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সঞ্চারিত করতে না পারলে  চেতনাভিত্তিক সুন্দরবনের  গঠনকাজ  সহজ হবে না। আমি প্রায়শই দেখি চেতনা সঞ্চারিত করার দায়িত্ব কেবল সরকারের_ এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত। এটা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে সচেতন  হয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

আমরা অনেকেই মনে রাখি না, আমাদের স্বাধীনতার চেতনার মূলে রয়েছে মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার। সব বঞ্চনা থেকে সুন্দরবনের  মানুষের সামাজিক  ও আর্থিক  মুক্তি ঘটবে।

তরুণদের বুঝতে হবে যে তাদের সমৃদ্ধি কেবল তাদের জন্য নয়, এর পেছনে দেশের খেটে খাওয়া মানুষেরও তাতে অবদান রয়েছে। একটি সরকারি বা সরকারি সাহায্যপুষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সনদ পাওয়া যায়, তাতে লেগে রয়েছে অনেকের ঘাম। তারা যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কেবল নিজেদের কথা না ভাবে। অন্যান্য নাগরিক যারা অর্থনৈতিকভাবে ততটা প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি এবং যারা পিছিয়ে পড়েছে বা পিছিয়ে থেকেছে, তাদের কল্যাণের কথাও ভাবতে হবে। তাদের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদস্থ ব্যক্তিরা এই বিষয়টি মনে রাখেন না। বস্তুত একটি দেশের সব নাগরিক যদি মর্যাদা না পায়, তাহলে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি টেকসই না-ও হতে পারে। টেকসই উন্নয়নের জন্য মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজটির জন্য তরুণ প্রজন্মের বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

দেশের সার্বিক কল্যাণ, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, উৎকর্ষতা সাধনের সাধক, উন্নয়নের ধারক-বাহক ও চালক হিসেবে বিবেচিত হবে – ইশতাহার তৈরির সময় সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে। সুন্দরবনের  অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দারিদ্রচক্র থেকে যত দ্রুত সম্ভব বের করা, কন্যা শিশুসহ মাতৃপ্রধান পরিবারসমূহকে সহায়তা করা ইত্যাদি কাজ করতে হবে৷ শিক্ষিত তরুণরা যেন দেশে-বিদেশে চাকরি করতে পারেন, শ্রমবাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারেন সেই ব্যবস্থাও পরবর্তী সরকারকে করতে হবে৷ তরুনদের উন্নয়ন কর্মে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে না হলে মূল্যবান সম্পদ (তরুণ প্রজন্ম) নষ্ট হবে৷

দেশপ্রেম বনাম উন্নয়ন ভাবনা ও তরুণ প্রজন্ম-

আজকের তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় পণ্যের বিষয়ে সচেতন করা দরকারসুন্দরবনের  শিল্পসাহিত্য, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিত করা;  সফল উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে অবহিত করা; সততা, নৈতিকতা এবং নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি বিভিন্ন দলের গঠনমূলক সমালোচনা করার মতো মানসিক সক্ষমতা সৃষ্টি করা আবশ্যক৷ গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন দলীয় সমর্থকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সম্পন্ন মানসিকতা গঠন করা জরুরি৷নতুবা এ বিশাল তরুণ প্রজন্ম ক্রমান্বয়ে দেশের রাজনীতি, দেশের উন্নয়ন, নিজের উন্নয়ন থেকে ছিটকে পড়বে৷

নিয়ন্ত্রিত ও দক্ষ তরুণ প্রজন্ম গঠন-

ডিজিটাল  বিকাশের ফলে অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল, ভিডিও ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে৷ যার যেটি ব্যবহার করার কথা তা যেমন করছে, তেমনি যার করার কথা নয়, সেও সেটি ব্যবহার করছে৷ যে বয়সে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা না, সে সেটি ব্যবহার করছে৷ তরুণরা এতে অনিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কিনা, সেটি নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ দরকার৷ ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, স্মার্টফোন, অনিয়ন্ত্রিত ওয়াই-ফাই নিয়ন্ত্রণ করা দরকার৷ শুধু যেন সনদধারী তরুণ প্রজন্ম তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্কবাণীর বিশেষ প্রতিফলন থাকতে হবে ইশতাহারে৷ শুধু যেন সনদধারী, আয়েশী ও দক্ষতাহীন তরুণ প্রজন্ম গড়ে না উঠে৷

একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে দেশে ৪০ শতাংশ তরুণ কোনো শিক্ষা গ্রহণ করছে না, কোনো ট্রেনিংও নিচ্ছে না এবং কোনো কর্মেও নিয়োজিত নেই৷ উন্নয়নশীল একটি দেশে কর্মহীন, দক্ষতাহীন তরুণ অকল্পনীয়৷ দেখতে হবে তরুণরা ডিজিটাল  সহজলভ্য প্রযুক্তির ফলে শুধুই কি ভোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছে, নাকি উদ্যোক্তাও হতে পেরেছে৷ প্রযুক্তির ব্যবহার তাঁদের জীবনে, শিক্ষায়, দক্ষতার উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে কতটুকু প্রভাব ফেলছে, তার সুস্পষ্ট হিসাব জানা প্রয়োজন৷

প্রতিযোগিতামূলক তরুণ প্রজন্ম গঠনে দল-

দক্ষতা বৃদ্ধিতে, ভাল কাজ করতে, প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টির অঙ্গীকার ইশতাহারে থাকতে হবে৷ প্রতিযোগিতার জন্য তরুণদের মানসিকভাবে তৈরি করতে হবে যেন, তারা নিজেদের বিশ্বমানের চিন্তা করতে পারে৷ উন্নত দেশে প্রতি পাঁচজন তরুণের মধ্যে ধরে নেওয়া হয় যে, একজন উদ্যোক্তা হবে এবং বাকি চারজনকে চাকরি দেবে৷ দেশে এরকম উদ্যোক্তা সৃষ্টির মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে কি? এ বিষয়ে দলগুলো কী ভাবছে? সত্য কথাটা তরুণদের বলতে হবে যে, চাকরির বাজার সীমিত, তবে দক্ষতা থাকলে সমাজে সেবা প্রদানের মাধ্যমে উপার্জন খুবই সম্ভব৷

আগামী ২০৩০, ২০৩৫ অথবা ২০৪০ সালে দেশে ক্রমবর্ধনশীল অর্থনৈতিক খাতগুলো কী কী হবে এবং সে সকল খাতে সেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে তরুণ প্রজন্ম প্রস্তুত কিনা, তা স্পষ্ট করে বলতে হবে৷

পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে তরুণ সমাজকে নিয়ে দল-

উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিচ্ছনতার বিষয়টি খুবই সম্পর্কিত৷  পরিচ্ছন সমাজ গঠনে কী কী পদক্ষেপ নেবেন, তরুণরা কীভাবে ভূমিকা রাখবে, তা তাঁদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বর, দেয়াল, শ্রেণিকক্ষ, ছাত্রছাত্রীদের বসবাসের হল, দোকান, বাজার, মহল্লার দালানের মধ্যবর্তী নর্দমা, শহরের বাসাবাড়ির বর্জ্য কবে কতদিনে পরিচ্ছন্ন হবে? পরিচ্ছন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিচ্ছন্ন শহর, পরিচ্ছন্ন আবাসন, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ কবে হবে? পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনের ফলে সামাজিক, মানসিক, পরিবেশগত, স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু শত শত কোটি টাকা সাশ্রয় হবে৷

সমাজ উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমে উদ্বুদ্ধকরণে দল-

উন্নয়নের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত সমাজের ক্ষুধা, দারিদ্র্য জয় করতে, পীড়িত, অসুস্থ, বিধবা, বয়স্ক, এতিম, প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানে দলের স্বেচ্ছাশ্রমের বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে৷ একই সাথে, রাস্তাঘাট উন্নয়নে, শিক্ষার মান উন্নয়নে তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রম উদাত্ত আহ্বান ইশতাহারে আসলে সমাজের/জাতির প্রভূত কল্যাণ হবে৷ যেমন, দেশের ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণের জন্য দেশের লক্ষ-লক্ষ পুকুরের গভীরতা বাড়ানোর মতো জরুরি কাজে তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রম অপরিহার্য৷

যদি শুধু ভোটারকে আকৃষ্ট করার জন্য কোনো নির্বাচনি ইশতাহার হয়, তবে তা দেশের ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে না৷ ইশতাহার হতে হবে তরুণদের দলের জন্য সমর্থন আদায় করা, একইসঙ্গে প্রকৃত অর্থে তরুণদের লালন করা এবং জীবনের জন্য, জনগণের জন্য, দেশের জন্য, সর্বোপরি বিশ্বের জন্য যোগ্য করে তোলা৷ তবেই দেশের সকল পক্ষ (তরুণ প্রজন্ম, রাজনৈতিক দল ও দেশ) লাভবান হবে৷ জাতি গঠনে তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন ভাবনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় এনে ইশতাহার প্রণীত হবে এই কামনা করছি৷ শুধু ক্ষমতায় যাবার মানসে অথবা ভোট-ভান্ডার বৃদ্ধির জন্য যেন ইশতাহার প্রণীত না হয়৷

উল্লেখ্য বিট্রিশ কাউন্সিল থেকে নেতৃত্ব বিষয়ক ৫দিনের প্রশিক্ষণ পেয়ে কক্সবাজারের তরুণ ওমর ফারুক গঠন করেন  উই ক্যান প্লাটফর্ম।করোনার  এই পরিস্থিতি নানাবিধ কাজের পাশাপাশি  এই প্লাটফর্মের অনলাইন লাইভ অনুষ্ঠান বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

Visits: 63

ট্যাগ :

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৬
  • ১২:০৩
  • ১৬:৪০
  • ১৮:৫২
  • ২০:১৮
  • ৫:১১