সাগরবাণীদেশে আর্টিমিয়া চাষ সম্প্রসারণ করলে সামুদ্রিক মাছ চাষ অধিক উৎপাদন সম্ভব - সাগরবাণী দেশে আর্টিমিয়া চাষ সম্প্রসারণ করলে সামুদ্রিক মাছ চাষ অধিক উৎপাদন সম্ভব - সাগরবাণী

দেশে আর্টিমিয়া চাষ সম্প্রসারণ করলে সামুদ্রিক মাছ চাষ অধিক উৎপাদন সম্ভব

প্রকাশ: ২০২০-১২-০১ ১৫:০৮:৪৬ || আপডেট: ২০২০-১২-০১ ১৫:০৮:৪৬

কক্সবাজারে আর্টিমিয়া চাষের পুকুর প্রস্তুত ও নকশা প্রনয়নের উপর প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষজ্ঞগণ-

বার্তা পরিবেশক

কক্সবাজারে আর্টিমিয়া চাষের পুকুর প্রস্তুতি এবং নকশা প্রনয়নের উপর একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা গতকাল সোমবার শহরের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ও ইউরোপিয়ান কমিশনের আর্থিক সহযোগিতায় “আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ” প্রকল্পের অধীনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার প্রাইস। প্রশিক্ষণ কর্মশালার মূল বক্তা এবং প্রশিক্ষক ছিলেন ভিয়েতনামের কান্থো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এনগুইন ভ্যান হোয়া ও বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. প্যাট্রিক সরগিলস। তারা দুইজনেই অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আর্টিমিয়া চাষের ভূসংস্থান, সাধারণ বাতাসের দিক, মাটির বৈশিষ্ট্য, গুণাগুন ও গঠন, জলবায়ুর অবস্থান, জলবায়ু-বান্ধব আর্টিমিয়ার একক এবং সমন্বিত (লবন-মাছ-আর্টিমিয়া) চাষ পদ্ধতির পুকুরের নকশা প্রনয়ন ও প্রস্তুতি, চুন প্রয়োগ, সার দেয়া পুকুর এবং আর্টিমিয়া পুকুর প্রস্তুতির বিজ্ঞান ভিত্তিক টেকসই উপায় তুলে ধরেন।
প্রকল্পের টিম লিডার ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, আর্টিমিয়া হল এমন এক ধরনের জলজ ক্ষুদ্র জীব যা অধিক ঘনত্বের লবণ পানিতে চাষ করা হয় এবং সারাবিশ্বে এটি মৎস্য ও চিংড়ি হ্যাচারিতে লার্ভার জীবন্ত খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর চিংড়ি হ্যাচারিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ৪০ মেট্রিক টন আর্টিমিয়া আমদানি করা হয়। এই প্রকল্পের অধীনে লবণ মাঠে লবণ ও আর্টিমিয়া চাষের মাধ্যমে চাষিরা অধিক লাভবান হবে এবং দেশে আর্টিমিয়ার চাহিদা পূরনে আমদানি নির্ভরতা কমবে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশে আর্টিমিয়া চাষ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে লবণ চাষিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মাছ চাষে অধিক উৎপাদন সম্ভবপর হবে। “আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ” প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলো হল; লবণ এবং আর্টিমিয়ার সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করা এবং লবণ মাঠে সামুদ্রিক মৎস্য চাষের উৎপাদন ও এর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা।
ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ এর জ্যেষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিনয় কুমার বর্মন প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনি বক্তব্যে বলেন আর্টিমিয়া চাষের ক্ষেএে উপযুক্ত পুকুর প্রস্তুতি ও নকশা প্রনয়ন অতীব জরুরী। তিনি এই প্রকল্পের কার্যক্রমে বিদেশী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, দেশীয় সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা  অন্যন্য অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম টেকসই ও সাফল্যমন্ডিত হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
উক্ত কর্মশালায় কক্সবাজার জেলার মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট বেসরকারী সংস্থার (নিরিবিলি ফিশারিজ লিমিটেড, সুশীলন, প্রত্যাশী) কর্মকর্তাবৃন্দ, গনমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ এবং “আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ” প্রকল্পের সকল গবেষকগণ অংশগ্রহণ করেন।

Visits: 94

ট্যাগ :

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৮
  • ১২:০৩
  • ১৬:৩০
  • ১৮:২২
  • ১৯:৩৭
  • ৫:৪১